Ekhon Bangla

আইনজীবীর পুজো গেট এবং কয়েকটি কথা

দেবরাজ মল্লিক, আইনজীবী

সম্প্রতি আমাদের ভারতবর্ষের পশ্চিমবঙ্গের অন্যতম শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গাপূজায় বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আমরা আজকের দিনেও আলোচনা হতে দেখছি। বিশেষত আর জি করের ব্যাপারে এবং তর্জনিত মানুষের অসুবিধা। কিন্তু এই আবহাওয়াই আরেকটি বিষয়ে একটু না বলে পারছি না। হাওড়া জেলাতে একটি পুজো কমিটির কাছে একজন আইনজীবী হয়তো অজ্ঞানতা বশেই বা না জেনে বা নিজের সমস্ত কিছু জানার পরেও, বিতর্ককে দূরে রেখে বলছি, একটি তোরণ উপহার দিয়েছেন, যেখানে তার নাম ফোন নাম্বার সহ তার পেশাগত জীবনের বিষয় গুলিও উল্লেখ রয়েছে। সেই নিয়ে আইনজীবী মহলে যথেষ্টই সমালোচনার ঝড় উঠেছে এবং তার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি সেই বিষয়ে ক্ষমা চেয়ে এর পুনরাবৃত্তি না হওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। 

কিন্তু তারপরেও আইনজীবী মহলে একটি বিষয় ঘোরাফেরা করছে, একটি প্রশ্ন আইনজীবীরা তারা তাদের সামাজিক মাধ্যমে তাদের পেশাগত জীবনের দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে খোলাখুলি আলোচনা করেন সেরকম বিষয়কেও ধরা হচ্ছে। তারা নাকি বিজ্ঞাপন দাতার জায়গায় নেমে এলেন। কারণ, আইনজীবীদের জন্য যে এডভোকেট এক্ট রয়েছে সেই অ্যাডভোকেটস এক্ট এ বলা আছে কোনও আইনজীবী বিজ্ঞাপনদাতার জায়গায় নিজেকে নামিয়ে আনতে পারেন না। সে ক্ষেত্রে এই প্রশ্নটা থেকেই যাচ্ছে বিজ্ঞাপন দাতা যখনই আমরা কথাটা শুনি তখনই বিজ্ঞাপনের যে সাধারণ কয়েকটি বিষয় পরিলক্ষিত হয় আমাদের কাছে যোগাযোগ এবং যোগাযোগের সময় কি কি পরিষেবা পণ্য কত অর্থর মূল্যে দেওয়া হয় এবং সেই ক্ষেত্রে পরিষেবা গত বিষয়ে আরও বিভিন্ন তথ্য।

এখন প্রশ্ন হল কোনও আইনজীবী ভারতবর্ষের সীমার মধ্যে তিনি যদি ভারতীয় বংশোদ্ভূত হন তাহলে কাশ্মীর থেকে কন্যা কুমারিকা, গুজরাট থেকে আসাম মেঘালয় পর্যন্ত তিনি ভারতবর্ষের যে অংশেই থাকুন না কেন ভারতীয় সংবিধান তার কাছে আইনের গীতা, কোরান, গ্রন্থ সাহেব, বাইবেল, ত্রিপিটক। সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে যেখানে ভারতীয় সংবিধানের 19 নম্বর ধারায় স্বাধীনতার অধিকারের বাক এবং মতামত প্রকাশের স্বাধীনতার কথা বলা রয়েছে বা অধিকার দেওয়া রয়েছে যা মৌলিক অধিকার, সেই মৌলিক অধিকারের প্রশ্নকে বোধহয় আলোরিত বা আন্দোলিত করে দিল। কারণ, যদি আইনজীবী হিসেবে কোন ব্যক্তি নিজের মতামত, পেশাগত জীবনের অভিজ্ঞতা, কোনও জন মানুষের বা কোনও সামাজিক মাধ্যমে আজকের দিনে প্রকাশ করতে চান, তাহলে সেটা তার মৌলিক অধিকারের মধ্যেই পড়ে। কিন্তু যদি তিনি আদালত অবমাননাকর কোনও বক্তব্য রাখেন বা অসম্মানজনক কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য রাখেন তাহলে তা অবশ্যই ধর্তব্য। তাহলে তা অবশ্যই বাতিলযোগ্য।

কিন্তু তা যদি না হয়, তাহলে ভারতবর্ষে ভারতবর্ষের নাগরিক হিসেবে যখন সাধারণ মানুষ লোকসভা বিধানসভা তথা পৌরসভার নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন এবং যখন তাদের কষ্টার্জিত অর্থের মাধ্যমেই কর দেওয়া হয় এবং করের টাকাতেই সংসদ ভবন, বিধানসভা এবং সমস্ত সরকারি অফিস চলে, তাহলে কিভাবে এই একটি বিষয়কে কেন্দ্র করে যদি না বিজ্ঞাপনের পূর্বনির্ধারিত শর্তগুলি প্রমাণ করা যায় তাহলে কিভাবে পেশাগত জীবনের ক্ষেত্রে কোন আইনের ক্ষেত্রে, কোন রায়ের ক্ষেত্রে বিশ্লেষণের ব্যাপারে ১৯৬১ এর এডভোকেট এক্ট সংবিধানের মৌলিক অধিকার কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে ফেলল? নাকি কিছু মানুষের অপব্যাখ্যার জন্য এই সামাজিক মাধ্যমে আইনজীবীদের উপস্থিতিকে ব্যবসায়িক মোড়কে মুড়িয়ে দেওয়া হলো?

(লেখার অভিমত সম্পূর্ণ লেখকের নিজস্ব, এই অভিমত একান্তই তাঁর ব্যক্তিগত।)

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *