Ekhon Bangla

কাকতালীয়…জিয়াগঞ্জ থানার কালী মন্দির ঘাটে মৃত্যুর হাতছানি

✍️কৌশিক বসু

হতে পারে ব্যাপার টা কাকতলীয়,  কিন্তু বাস্তব এটাই যে জিয়াগঞ্জ থানার পাশে কালী মন্দিরের গায়ে এই ঘাটে যে সমস্ত কপোত কপোতিরা ঘাটের পাশেই কালী মন্দিরের গায়ে সাইকেল বা মোটর সাইকেল লাগিয়ে রাতের বেলায় এবং দিনের বেলাতেও অসভ্যতামি করে, তাদের মধ্যে কেউ না কেউ প্রতি বছর ঠিক এই ঘাটে অথবা এই ঘাটের আশেপাশের ঘাটেই জলে ডুবে মারা যায়। 

বিগত চার বছর থেকেই ব্যাপার টা লক্ষ্য করছি। গত কাল বিকেল বেলায় চরম বৃষ্টির মধ্যে দুটি ছেলে মেয়ে গংগার ধারে গাছের নীচে দাঁড়িয়ে ছিল। বাজ পড়ছিল চরম ভাবে। অনেকেই উপরে আসতে বলেছিল দু’জন কেই। কিন্তু কোনও অজ্ঞাত কারনে দুজনের কেউই সেফ জায়গায় আসেনি। বজ্র বিদ্যুৎ এর সময় ছেলেটি হটাৎ গংগায় ঝাঁপ দেয় আর মেয়েটিও তারপরেই অজ্ঞান হয়ে যায়। ছেলেটির কোন খোঁজ পাওয়া যায় নি এখনও অব্দি। 

গত বছরও এই ঘাটের উপরে দুটি ছেলে মেয়ে নিজেদের মধ্যে কথা কাটাকাটি করতে করতে হটাৎ মেয়েটি গংগায় ঝাঁপ দেয়। তার আগের বছরও একদম একই ঘটনা এই ঘাটেই রাতের বেলা, দিনের বেলা এসে মন্দিরের গায়ে গা ঠেকিয়ে অসভ্যতামি করা দুটি ছেলে মেয়ের মধ্যে একজন জলে ডুবে মারা যায়। 

ব্যাপার টা হয়তো কাকতালীয় হতেই পারে, কিন্তু অনেকেই জানে না এই মন্দির যেটা জিয়াগঞ্জ থানা নিজেদের এরিয়ায় ঢুকিয়ে নিয়েছে সেটি আসলে রায় বাহাদুরের সম্পত্তি। রায় বাহাদুরের তৈরী করা এই মন্দিরের আসল দরজার মুখ গংগার দিকে ছিল। যারা গংগা স্নান করতো তারা স্নান করার পর এই মন্দিরের শিব লিংগের মাথায় জল ঢেলে তারপর বাড়ি যেত। 

প্রতিটি বিপদের একটা ছক থাকে,  সেই ছকে পড়ে গেলেই বিপদ অনিবার্য। সমস্ত খারাপ কাজের ছকে বিপদ লুকিয়ে থাকে। সেই ছকের ফাঁদে পড়লেই মৃত্যু অনিবার্য। থানার পাশের এই ঘাট কিন্তু মারাত্মক বিপদের ছকের ঘাট। এই ঘাট দেবতাদের ঘাট। বেশি রকমের অসভ্যতামি অপমান কিন্তু কেউই মেনে নেয় না। তাই খুব সাবধান…

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *